বহুত কাঠখড় পুড়ানোর পর অবশেষে বাগদাদ শহরের উদ্যেশ্যে রওনা হলাম। চাকরি নিয়ে। আমার শালী কালাপানি পার হইছে অনেক আগেই । মানে এখন লন্ডন শহরে উচ্চশিক্ষার্থে বসবাস করে। শেষবার যখন সে লন্ডন যায় সেই বার এয়ারপোর্টে অনেক বাংগালী শ্রমজিবী মানুষেকে নাকাল হতে দেখেছে আমাদের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে। হাইরে যারা দেশটাকে বৈদেশিক মুদ্রায় ভরে দিচ্ছে তাদের না কতই নাকানী চুবানী খেতে হয়। থাক সে কথা এখন, আমার কথায় আসি। তো আমাকে এই সকল বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাবার জন্য ওরা দুই বোন ( আমার বউ ও শালী) ঠিক করলো আমাকে ফুলবাবু সেজে যেতে হবে, মানে স্যুট-টাই পরে যেতে হবে । কি আর করা ইচ্ছা থাকিলেও উপায় নাই। তাই করিতে হইলো। নির্দিষ্ট দিনে সকল বাঁধা টপকাইয়া বিমানে পা দিলাম। চারিদিকে তাকাতে তাকাতে নিজের সিটের দিকে এগুতে লাগলাম। অন্য কারো গায়ে স্যুট-কোট দেখলাম না মনটা একটু খুতখুত করতে লাগলো। সিটে বসেই স্যুট-টাই খুলে ফেলে রেখে দিলাম। ঘন্টা চারেক পর দুবাই এসে গেলাম । টার্মিনলে যাবার জন্য বাসে উঠলাম। বাসে উঠেই দেখি আর একজন ভদ্রলোক আমার মতই স্যুট-কোট পরে দাঁড়িয়ে আছে। ভবালাম আমি একা না । আরেকটু ভালো করে তাকাতেই দেখি আসলেই আমি একা না। ভদ্রলোকের ল্যাপটপ ব্যাগ ও আমার ল্যাপটপ ব্যাগ একদম এক! এই ব্যাগটা আমার বউ অনেক গবেষনার পর আমাকে কিনে দিয়েছিলো। আমি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে ভাবতে লাগলাম এই সারা প্লেনে তাহলে আমরাই দুই বেকুব। তাই আমাদের এত মিল !
@ ঘাসফড়িঙ ২৪ এপ্রিল ২০১২
No comments:
Post a Comment