Friday, August 10, 2012

মন ভালো নেই – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মন ভালো নেই
মন ভালো নেই
মন ভালো নেই

কেউ তা বোঝে না
সকলি গোপন
মুখে ছায়া নেই
চোখ খোলা তবু
চোখ বুজে আছি
কেউ তা দেখেনি
প্রতিদিন কাটে
দিন কেটে যায়
আশায় আশায় আশায় আশায়
এখন আমার
ওষ্ঠে লাগে না
কোনো প্রিয় স্বাদ
এমনকি নারী
এমনকি নারী
এমনকি নারী
এমন কি সুরা এমন কি ভাষা

মন ভালো নেই
মন ভালো নেই
মন ভালো নেই
বিকেল বেলায়
একলা একলা
পথে ঘুরে ঘুরে
একলা একলা পথে ঘুরে ঘুরে একলা একলা পথে ঘুরে ঘুরে

কিছুই খুঁজি না
কোথাও যাই না
কাউকে চাইনি
কিছুই খুঁজি না কোথাও যাই না
আমিও মানুষ
আমার কী আছে
অথবা কী ছিল
আমার কী আছে অথবা কী ছিল
ফুলের ভিতরে
বীজের ভিতরে
ঘুণের ভিতরে
যেমন আগুন আগুন আগুন আগুন আগুন

মন ভালো নেই
মন ভালো নেই
মন ভালো নেই
তবু দিন কাটে
দিন কেটে যায়
আশায় আশায়
আশায় আশায় আশায় আশায়

তুমি চলে যাচ্ছো-নির্মেলেন্দু গুণ

তুমি চলে যাচ্ছো

নদীতে কল্লোল তুলে লঞ্চ ছাড়ছে

কালো ধোঁয়ার ধস ধস আওয়াজের ফাঁকে ফাঁকে

তোমার ক্লান্ত অপস্রিয়মাণ মুখস্রী

সেই কবে থেকে

তোমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছি

তুমি চলে যাচ্ছো

তোমার চলে যাওয়া শেষ হচ্ছে না

সেই কবে থেকে তুমি যাচ্ছো তবু শেষ হচ্ছে না

তবু শেষ হচ্ছে না

বাতাসের সঙ্গে কথা বলে

বৃষ্টির সঙ্গে কথা বলে

ধলেস্বরীর দিকে চোখ ফিরাতেই

তোমাকে আবার দেখলুম

আবার নতুন করে তোমার চলে যাওয়া শুরু

তুমি চলে যাচ্ছো

নদীতে কল্লোল তুলে লঞ্চ ছাড়ছে

কালো ধোঁয়ার ফাঁকে ফাঁকে

তোমার ক্লান্ত অপস্রিয়মাণ মুখস্রী

যেনো আমার সেই প্রথমবারের মতো চলে যাওয়া

তুমি চলে যাচ্ছো

আমি দুই চোখে তোমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছি তাকিয়ে রয়েছি

তুমি চলে যাচ্ছো

নদীতে কান্নার কল্লোল

তুমি চলে যাচ্ছো

বাতাসে মৃত্যুর গন্ধ

তুমি চলে যাচ্ছো

চৈতন্যে অস্থির দোলা

লঞ্চ ছাড়ছে টারবাইনে বিদ্যুৎ গতি ঝর তুলছে প্রানের বৈঠায়

কালো ধুঁয়ার দুরত্ব চিরে চিরে ভেসে উঠছে তোমার অপস্রিয়মাণ মুখস্রী

তুমি ডুবতে ডুবতে ভেসে উঠছো

তোমার চলে যাওয়া কিছুতেই শেষ হচ্ছে না

তিন হাযার দিন ধরে তুমি যাচ্ছো যাচ্ছো আর যাচ্ছো

তুমি চলে যাচ্ছো আকাশ ভেঙ্গে পড়ছে তরঙ্গিত নদীর জ্যোৎস্নায়

কালো রাজহংশের মতো তোমার নৌকো

কাঁশ বনের বুক চিঁরে চিঁরে আখ ক্ষেতের পাশ দিয়ে যাচ্ছে অজানা ভুবনের ডাকে

তুমি চলে যাচ্ছো আকাশ ভেঙ্গে পড়ছে আকাশের মতো

হে তরঙ্গ

হে সর্বগ্রাসী নদী

হে নিষ্ঠুর কালো নৌকো

তোমরা মাথায় তুলে যাকে নিয়ে যাচ্ছো

সে আমার কিছুই ছিলো না

তবু কেনো সন্ধের আকাশ এভাবে ভেঙ্গে পড়লো নদীর জ্যোৎস্নায়

ভেঙ্গে পড়লো জলের অতলে তুমি চলে যাচ্ছো বলে

তুমি চলে যাচ্ছো

ল্যাম্পোষ্ট থেকে খসে পড়ছে বাল্ব

সমস্ত শহর জুড়ে নেমে আসছে মাটির নিচের গাঢ় তমাল তমশা

যেনো কোনো বিজ্ঞ যাদুকর কালো স্কার্ফ দিয়ে

এ শহর দিয়েছে মুড়িয়ে

দু একটা বিষণ্ণ ঝিঁ ঝিঁ ছাড়া আর কোনো গান নেই

শব্দ নেই জীবনের শিল্প নেই

নেই কোনো প্রাণের সঞ্চার

এ শহর অন্ধ করে তুমি চলে যাচ্ছো

আর এক দুরের নগরে

আমি সেই নগরীর কাল্পনিক কিছু আলো চোখে মেখে নিয়ে

তোমার গন্তব্যের দিকে নিলীমায় রয়েছি

তুমি চলে যাচ্ছো

তোমার বিদায়ি চোখে চশমায় নূহের প্লাবণ

তুমি চলে যাচ্ছো

বিউগলে বিষণ্ণ সুর ঝর তুলছে অন্তরগত অশোক কাননে

তুমি চলে যাচ্ছ

তোমার পশ্চাতে এক রিক্ত নিঃস্ব মৃতের নগরী পড়ে আছে

অনন্ত অস্থির চোখে বেদনার মেঘ জমে আছে

তোমার মুখের দিকে তাকাতে পারিনা

তোমাকে দেখার নামে

তোমার চতুর্দিকে পরিপার্শ্ব দেখি

বিমান বন্দরে বৃষ্টি

দুচোখ জলের কাছে ছুটে যেতে চায়

তোমার চোখের দিকে তাকাতে পারিনা

তুমি চলে যাচ্ছো

আমার কবিতা গুলো শরবিদ্ধ আহত সিংহের ক্ষোভ বুকে নিয়ে পড়ে আছে একা

তুমি চলে যাচ্ছ

কতোগুলি শব্দের চোখে জল

খালেদ খানের কন্ঠে

Sunday, July 15, 2012

দুই বেকুব

বহুত কাঠখড় পুড়ানোর পর অবশেষে বাগদাদ শহরের উদ্যেশ্যে রওনা হলাম। চাকরি নিয়ে। আমার শালী কালাপানি পার হইছে অনেক আগেই । মানে এখন লন্ডন শহরে উচ্চশিক্ষার্থে বসবাস করে। শেষবার যখন সে লন্ডন যায় সেই বার এয়ারপোর্টে অনেক বাংগালী শ্রমজিবী মানুষেকে নাকাল হতে দেখেছে আমাদের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে। হাইরে যারা দেশটাকে বৈদেশিক মুদ্রায় ভরে দিচ্ছে তাদের না কতই নাকানী চুবানী খেতে হয়। থাক সে কথা এখন, আমার কথায় আসি। তো আমাকে এই সকল বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাবার জন্য ওরা দুই বোন ( আমার বউ ও শালী) ঠিক করলো আমাকে ফুলবাবু সেজে যেতে হবে, মানে স্যুট-টাই পরে যেতে হবে । কি আর করা ইচ্ছা থাকিলেও উপায় নাই। তাই করিতে হইলো। নির্দিষ্ট দিনে সকল বাঁধা টপকাইয়া বিমানে পা দিলাম। চারিদিকে তাকাতে তাকাতে নিজের সিটের দিকে এগুতে লাগলাম। অন্য কারো গায়ে স্যুট-কোট দেখলাম না মনটা একটু খুতখুত করতে লাগলো। সিটে বসেই স্যুট-টাই খুলে ফেলে রেখে দিলাম। ঘন্টা চারেক পর দুবাই এসে গেলাম । টার্মিনলে যাবার জন্য বাসে উঠলাম। বাসে উঠেই দেখি আর একজন  ভদ্রলোক আমার মতই স্যুট-কোট   পরে দাঁড়িয়ে আছে। ভবালাম আমি একা না । আরেকটু ভালো করে তাকাতেই দেখি আসলেই আমি একা না। ভদ্রলোকের ল্যাপটপ ব্যাগ ও আমার ল্যাপটপ ব্যাগ একদম এক! এই ব্যাগটা আমার বউ অনেক গবেষনার পর আমাকে কিনে দিয়েছিলো। আমি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে ভাবতে লাগলাম এই সারা প্লেনে তাহলে আমরাই দুই বেকুব। তাই আমাদের এত মিল !

@ ঘাসফড়িঙ ২৪ এপ্রিল ২০১২

Friday, January 27, 2012

আরব বসন্ত

আরব বসন্ত ! হাহ !
আরব্বসন্ত বলতে সবায় আরব দেশগুলোর চলমান চলমান গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনকেই বুঝবে |
কিন্তু আমার জন্য এটা কিছুটা ভিন্ন |
ইরাকে যাবার এক খানা কন্ট্রাক্ট পাইলাম | এরিকসনে | ওয়ারলাইন  সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার | অনেক চিন্তা করে বা না করে অকাহ্নানে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম | আমার একটা ব্রেক দরকার | অসুখের পর মানুষ হওয়া পরিবর্তন করতে যেত | এখন বুঝতে পারো কেন যেত | অসুখের পর মানুষের মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হয় | আমি কিছুটা স্বাভাবিক বোধ বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছি | তাই একটা পরিবর্তন দরকার | আর এখানে কাজের চাপ ও অনেক বেশি | কিন্তু কুনো মুল্যায়ন নাই | আমার লাইন মেনেজার আমাকে কখনো প্রমোট করবে না | তাই এই যাওয়া |

এখন ভিসার জন্য অপেক্ষা করছি |

এর মাঝে একটা মজার বেপার ঘটে গেলো | আমাকে ১৫ তারিখ থেকে রিমোট সাপোর্ট দিতে বললো | আমি এখন রিমোট সাপোর্ট দিচ্ছি | এক সাথে নকিয়া সিমেন্স ও এরিকসন | ভালই লাগছে |
দেশে বসে যদি ডলার কমানো যায় মন্দ নহে |
সবই আল্লাহর ইচ্ছা |
এখন ভালয় ভালয় ওই দেশে পৌছাতে পারলেই হয় |

ধানমন্ডি, ঢাকা
২৭ জানুয়ারী , ২০১২


Monday, January 9, 2012

অপার মহিমা

"আল্লাহ্ কে বোঝে তোমার অপার লীলা কে বোঝে তোমার অপার লীলে |"


গতকাল দুইটা বিষয় নিয়া বড় টেনসনে ছিলাম | উপায়ান্তর না দেখে আল্লাহর কাছে বেকুল হয়ে চাইলাম | আল্লাহ একটা সমাধান করে দিলো | সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গেলো | তবে এখনো পথ চলা বাকি | বাকি পথ তুকুতেও যেনো মহান আল্লাহ তালার অনুগ্রহ পাই |

ঢাকা 

০৯-০১-২০১১